আত্মহত্যা কি ভাবে কমানো যেতে পারে

আত্মহত্যা কমাতে গেলে কেন কেউ আত্মহত্যা করে সেটা জানা দরকার। সেটা জানলে আত্মহত্যার সম্ভাবনা কমানো যেতে পারে। তাছাড়া আত্মহত্যা একটা বেশ জটিল বিষয়, এতে ব্যক্তিগত, পরিবার, সমাজ সব কিছু কোন না কোন ভাবে জড়িয়ে আছে। সুতরাং আত্মহত্যা কমাতে গেলে ব্যক্তিগত ভাবে, পরিবারগত ভাবে এবং সামাজিক দিক দিয়ে, ও পরিসেবার দিক দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

ব্যক্তিগত ভাবে কি করা উচিৎ ?

আত্মহত্যার চিন্তা মনে এলে সেটা নিজের মধ্যে না রেখে কারো সাথে কথা বলা একান্তই দরকার। কারন, না হ’লে আত্মহত্যার চিন্তা মনের মধ্যে ঘুরতেই থাকবে ও তারজন্য মনের মধ্যে চাপ বাড়তে থাকবে। আপনার সব চেয়ে কাছের জনের সাথে কথা বলুন। সে যেই হোক না কেন। নিজের পরিবারের কারো সাথে যেমন, মা বাবা, ভাই বোন, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে, এমনকি বন্ধু বান্ধবদের সাথে। কেউ না থাকলে, যেটা সাধারণতঃ খুব কমই হয়, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

নিজের মনকে প্রশ্ন করুন কেন এই মরে যাবার কথা মনে হচ্ছে। মনটা কি ইদানিং কালে খুব খারাপ হয়ে গেছে? মনে আনন্দ ও ফুর্তি নেই? আগে যা যা ভালো লাগত সেই সব আর ভালো লাগছে না ? মনের মধ্যে চাপ অনুভূত হচ্ছে ? যে মনের চাপের কারন হয়তো আগেই ছিল ,না এখন হয়েছে। মনে হচ্ছে পরিবার বা সমাজ থেকে দূরে চলে গেছেন? একা হয়ে গেছেন? আবার কেউ কেউ মনের মধ্যে রাগের জন্য বা প্রতিশোধ নেবার জন্য এই আত্মহত্যার কথা ভাবতে থাকেন,সেই রকম রাগ হচ্ছে না তো?

অনেকে এই আত্মহত্যার টেনশন বা ডিপ্রেশন (বা মনের অবসাদ) কাটাবার জন্য মদ্য বা অ্যালকোহল পান করতে থাকেন। এর ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা আরো বেড়ে যায়।

সেই সব কারনে আত্মহত্যার কথা মনে হলেই সব চেয়ে কার্যকারি ব্যবস্থা হোল কারো সাথে কথা বলা (অনেক সময় তাহলে মানসিক চাপ কমানোর কোন না কোন সমাধান বেরিয়ে আসবেই ) , একা না থাকা, কোন ধরনের ড্রাগ, বা মাদক দ্রব্য ও অ্যালকোহল ব্যবহার না করা এবং মনের অবসাদ অবস্থার জন্য ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

পরিবারের কেউ আত্মহত্যার কথা বললে অন্যদের কি কর্তব্য ?

পরিবারে কেউ আত্মহত্যা করলে অন্যদের সজাগ থাকা দরকার। জীবিতদের মধ্যে কেউ যদি মৃতের সাথে মানসিক ভাবে খুব জড়িত থাকে তাহলে সেও আত্মহত্যার পথে যেতে পারে।

আত্মহত্যার করার আগে থেকে বোঝা যেতে পারে তাঁদের মনের পরিববর্তন থেকে। যেমন মনে ডিপ্রেশন বা অবসাদ ভাব আসতে পারে। অন্যদের সাথে মেলা মেশা বন্ধ করে দেয়, লেখা পড়ায় মনোযোগ থাকে না ,যার জন্য পড়ায় পিছিয়ে পড়ে, কাজে যেতে চায় না, একটুতেই রেগে যায় বা সব সময় বিরক্তি ভাব, ঠিকমত ঘুমায় না, শেষ রাতের দিকে জেগে বসে থাকে, খাওয়া কমিয়ে দেয়,তারজন্য অনেক রোগা হয়ে যেতে পারে, ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। কেউ কেউ বলতে পারে যে আর বেঁচে থেকে লাভ নেই। জীবনটা ব্যর্থ হয়ে গেছে, ভবিষ্যতে কোন আশা নেই। আর যদি ডিপ্রেশন আরো বেশী গভীর হয় তাহলে কেউ কেউ কানে নানা রকম কথা শুনতে পারে যেমন, “ তোর জীবনের কোন দাম নেই”, তোর বেঁচে থেকে লাভ কি? তোর মরে যাওয়াই ভাল”, এখনি মরে যা”।

এই ধরনের উপসর্গ থাকলে ধরে নিতে হবে যে ডিপ্রেশনের অবস্থা খুব সাংঘাতিক স্তরে পৌছেচে। তখন এই ধরনের রোগীকে বাড়ীতে রাখা বিপদজনক কারন তাঁরা যে কোন সময় আত্মহত্যা করতে পারে।

এটা হয়ত অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন যে এক ধরনের মানুষ আছেন যাঁরা খুব রাগী, স্পর্শকাতর, মানে একটুতেই তাঁদের মনে খুব আঘাত লাগে, বা যখন তাঁদের কোন কিছু চাহিদা না মেটে তখন তাঁরা ঝোঁকের মাথায় অনেক ক্ষতিকর কাজ করে ফেলে। এই ধরনের চরিত্রের আভাষ অনেক ছোট বয়স থেকেই লক্ষ্য করা যায়। তাঁরা ছোট বেলাতে বা বয়ঃসন্ধিকালে ঝোঁকের মাথায় মরে  যাওয়ার জন্য বিষ খেতে পারে, বা অন্য ধরনের আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারে। এরা আত্মহত্যা করার আগে কোন ধরনের সংকেত বা ইঙ্গিত নাও দিতে পারে। সেজন্য এদেরকে একটু সাবধানে সামলাতে হবে। এদের অনেকেই বড় হয়ে মদ্য পান বা অন্যান্য ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহার করতে পারে। পরিবারে তাঁদেরকে মানিয়ে নিতে প্রায়ই অসুবিধা হতে পারে।

এরা প্রায়ই মেনে নিতে চায় না যে এটা তাদেরই সমস্যা, অন্যদের সমস্যা নয়। সে জন্য তাঁরা কোন ধরনের সাহায্য নিতে অস্বীকার করে।

সমাজিক স্তরে কি ভাবে আত্মহত্যার কমানো যেতে পারে

স্কুল, কলেজ বা কাজের জায়গায় যদি কেউ কারোর বিশষ পরিববর্তন লক্ষ্য করেন তবে সেটা কতৃপক্ষকে বা তাঁদের ফ্যামিলি বা পরিবারকে জানান উচিৎ। সব রকম প্রতিষ্ঠানে আত্মহত্যা, ও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যের সম্বন্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা উচিৎ যাতে কোন ধরনের মানসিক সমস্যার শুরুতেই যেন তার সারানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

সে জন্য স্কুলে, বা যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মানসিক রোগ সম্বন্ধে জানা দরকার, যাতে তাঁরা ছাত্রের মধ্যে কোন ধরনের মানসিক চাপ বা সমস্যা হলে যেন বুঝতে পারেন এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

অনেক দেশেই আত্মহত্যার কোন খবর সংবাদপত্র বা টিভি ইত্যাদিতে প্রকাশ করা হয় না। কারন এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের পর কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন।

সরকারি স্তরে বা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কি ভাবে আত্মহত্যা কমাতে পারে?

প্রায় প্রত্যেক পাশ্চাত্য দেশেই এমনকি কিছু কিছু এশিয়ার দেশে ইমারজেন্সি টেলিফোন ব্যবস্থা আছে যেটা চব্বিশ ঘণ্টা চালু থাকে। সুতরাং কারোর  মনে যদি মরে যাওয়ার ভাবনা খুব আসতে থাকে, বা মনকে খুব  চঞ্চল করে দেয় তাহলে সেই নাম্বারে ফোন করলে ইমারজেন্সি বা আপৎকালিন সাহায্য পাওয়া যেতে পারে।

আবার সেটা সম্ভব না হলে অনেকে পুলিশকে ফোন করতে পারেন। এ সব জানা সত্ত্বেও আত্মহত্যাকারী অনেক সময় কোন সাহায্য নিতে চান না, সে ক্ষেত্রে বাড়ির লোকজন বা বন্ধু বান্ধব বা পাড়া পড়শি যে কেঊ ইমারজেন্সি নাম্বারে বা পুলিশে ফোন করে দিতে পারেন।

আর সরকারি স্তরে টিভি,রেডিও, বা সংবাদপত্রে জনসাধারণের মানসিক রোগের সম্বন্ধে প্রচার চালাতে পারে। ডিপ্রেশন বা অবসাদ রোগের সম্বন্ধে বিশেষ করে প্রচার করা দরকার কারন এটাই আত্মহত্যার একটা প্রধান কারন।

সন্তান প্রসবের পর মায়ের ডিপ্রেশন ও তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাঃ

প্রায় প্রত্যেক সমাজে ও দেশে দেখা গেছে যে সন্তান জন্মাবার কিছু সপ্তাহের মধ্যেই মায়ের মধ্যে ডিপ্রেশন বা অবসাদ ভাব আসতে পারে। যে সব মায়েরা আগে থেকেই অবসাদে ভুগছিলেন, বা যাদের মধ্যে অবসাদের ভাব ছিল, তাঁদের এই অবসাদ ভাব বেড়ে যেতে পারে। এমনকি যারা হয়তো আগে থেকেই অবসাদের চিকিৎসার ঔষধ খাচ্ছিলেন তাদেরও সন্তান প্রসবের পর বাড়াবাড়ি হতে পারে।

অনেক সময় ডাক্তাররা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মানসিক রোগের ঔষধগুলি বন্ধ করে দেন, কারন না হ’লে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। সন্তান জন্মাবার পরই, আবার ঔষধ চালু করে দেন।

সন্তান জন্মাবার পর বেশীরভাগ মায়েদেরই দুর্বলতা, ঘুম কম হওয়া, মনে অবসাদ ভাব, কাজে কর্মে মন লাগে না, এমনকি বাচ্চাকে ঠিকমত দেখাশোনা করেন না। যদি অবসাদের মাত্রা খুব বেশী হয়, এমনকি মনে করতে পারেন যে সন্তানের বিকলাঙ্গ। যদি আরো খারাপের দিকে যায় তাহ’লে কেউ কেউ কানে নানা কথা শুনতে পারেন, যেন কেউ বলছে সন্তানকে মেরে ফেলতে।

কোন কোন অবসাদগ্রস্থ মায়েদের আত্মহত্যার কথা আসতে পারে। কানে শুনতে পারেন কেউ যেন বলছে মরে যেতে। এর ফলে মা তখন সন্তানকে মেরে ফেলে নিজে আত্মহত্যা করেন।

যদি অবসাদের মাত্রা কম হয়, তবে পরিবারের অন্যদের সাহায্যে সেটা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়। অবসাদের সময় সদ্যজাত শিশুকে দেখা শোনার জন্য পরিবারের অন্যকাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিৎ বা যেখানে সেটা সম্ভব নয়, যেমন বেশীর ভাগ পাশ্চাত্য দেশে, সেখানে সরকারি স্তরে সেই মায়েদের ও সন্তানকে দেখাশোনার জন্য সামাজ কর্মী বা নার্স বাড়িতে এসে সাহায্য করেন।

অবসাদের মাত্রা বেশী হ’লে, মা যদি সন্তানকে দেখা শোনা না করতে পারেন তবে সেই সন্তানকে সরিয়ে নিয়ে অন্য কারো হাতে দেখাশোনার ভার দেওয়া হয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য মানসিক রোগের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা হয়।

ভবিষ্যতের মা যাতে আবার অন্তঃসত্ত্বা না হয়ে পড়েন সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, এবং যদি অন্তঃসত্ত্বা হয়েও পড়েন তবে যেন ডাক্তারের সাথে সব সময় পরামর্শ করা হয়।

গন আত্মহত্যা ও  আত্মহত্যার চুক্তি

একসঙ্গে অনেকে বা একের বেশীজন আত্মহত্যার ঘটনা ইতিহাসে, এমনকি এখনো মাঝে মাঝে শোনা যায়। সাধারণতঃ এই ধরনের সমবেত বা একসঙ্গে আত্মহত্যা হয়েছে কোন ধর্মীয় গ্রুপ বা Cult গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে। এছাড়া কখনো কখনো পরিবারের সকলে এক সঙ্গে আত্মহত্যা করা, বা প্রেমিক ও প্রেমিকার একসাথে আত্মহত্যাও এক ধরনের চুক্তি করে আত্মহত্যা করা। প্রেমিক প্রেমিকারা যখন কোন সামাজিক কারনে বা ধর্মীয় কারনে মিলিত হতে পারে না তখন তাঁরা এক সঙ্গে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এব্যপারে আত্মহত্যার নোটে বা চিঠিতে তাঁরা জানিয়ে থাকে যে এ জন্মে তাঁরা মিলিত হতে পারছে না তাই পর জন্মের মিলিত হবার জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিল।

আমাদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে রাজস্থানে রাজপুত রমণীরা “জওহর ব্রত” করে একসাথে চিতায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন কারন মুসলিম আক্রমণের পর তাঁদের সম্মানের হানির থেকে বাঁচতে। এই আত্মহত্যার ইতিহাস এখনো গৌরবের সঙ্গে লেখা আছে, এই জওহর ব্রত রাজস্থানের চিতরে হয়েছিল ১৩০৩, ১৫৩৫ এবং ১৫৬৮ খ্রীষ্টাব্দে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানী কামাকাজি যোদ্ধারা বিপক্ষের যুদ্ধ জাহাজে বিমান সুদ্ধ ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। এছাড়াও জাপানে নিজেদের পেটে ছুরি মেরে আত্মহত্যা করেন,এটাকে বলা হয় সেপুকু (Seppuku ceremony) আত্মহত্যা।

১৯৭৮ সালে জিম জোন্স, ‘People of Temple” এর প্রতিষ্ঠাতা গায়নার জোন্সটাউনে ৯০৯ জন সদস্য বা ঐ “Cult” এর মতে যারা বিশ্বাসী তাঁরা এক সঙ্গে মৃত্যু বরন করেন বা আত্মহত্যা করেন। এর মধ্যে ২৭৬ জন শিশুও ছিল।

মাত্র কয়েক দশক আগে ১৯৯৭ সালে আমেরিকার সান ডিয়াগো শহরে “স্বর্গের দ্বার, বা Heaven’s gate” এ বিশ্বাসী সদস্যরা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন যে স্বর্গের থেকে এক অন্তর্যান যেটা একটা ধূমকেতুর পিছনে আসছে সেটাতে যেতে হ’লে নিজেদের আগে মৃত্যু বরন করতে হবে। আত্মহত্যার জন্য তাঁরা নিজেরা ড্রাগ নিয়ে, তারপর শ্বাস বন্ধ করে মারা যান একে অন্যদের দ্ধারা। এই আত্মহত্যা চলতে থাকে তিনদিন ধরে, এবং সব সুদ্ধ উনচল্লিশ জন মারা যান।

এই প্রবন্ধের প্রথমে যে আত্মহত্যার কথা লেখা হয়েছে সেটা একটা “ আত্মহত্যার চুক্তি বা চুক্তি করে আত্মহত্যা”। কেন ঐ তিন মহিলা এই চরম পথ বেছে নিলেন? এর নানা কারন হতে পারে যেমন,

তাহলে তাঁদের কি পরিবারের খুব নিকট জন মারা যাবার জন্য কয়েকদিনের মধ্যে খুব বেশী ডিপ্রেশন বা অবসাদ ভাব হয়েছিল যার জন্য তাঁরা নিজেদের  আর বেঁচে থাকার আর প্রয়োজন মনে করেন নি? না কি তারাও ভেবেছিলেন মৃতের সঙ্গে অন্য জন্মে মিলিত হতে চেয়েছিলেন? অবশ্য তাঁরা যদি পর জন্মে বিশ্বাস করেন তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এটাও হতে পারে তাঁদের মধ্যে যে সব চেয়ে প্রধান ব্যক্তিত্ব বা যাঁর মতেই অন্যরা বিনা প্রশ্নে সব কিছু মেনে চলেন তাঁর হয়ত খুব বেশি ডিপ্রেশন বা অবসাদ হয়ে ছিল। তারজন্য তাঁর মনে হয়েছিল যে বেঁচে থেকে আর লাভ নেই। তবে সে হয়ত অন্যদের উপর এমন মানসিক প্রভাব ফেলেছিল যার জন্য সবাই মনে করেছিল আত্মহত্যাই সব চেয়ে ঠিক সিদ্ধান্ত।

এটা বেশ বোঝা যাচ্ছে যে এই আত্মহত্যার পেছনে কোন হঠকারিতা (বা Impulsiveness) নেই। তাঁরা বেশ প্ল্যান করেই আত্মহত্যা করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের সব সম্পত্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন, যাতে কোন ভাবে তাঁদের এই মন ভাব প্রকাশ না পায় তার জন্য তাঁরা যথেষ্ঠ গোপনতা নিয়ে ছিলেন। অবশ্য আমার জানা নেই তাঁরা কোন আত্মহত্যার চিঠি বা নোট লিখেছিলেন কিনা। আর চৌত্রিশ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মরা একটা নিশ্চিত মৃত্যু,এর থেকেও বোঝা যায় তাঁরা মরে যাওয়ার কতটা স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন।

আবার মনোস্তত্ববিদরা মনে করেন যে মানসিক ব্যথা বা কষ্ট এই আত্মহত্যার একটা প্রধান কারন। যখন মানসিক ব্যথা সহ্যের বাইরে চলে যায় তখন তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই অবস্থাটা হয়ত তাঁদের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। তাছাড়া বেঁচে থাকার জন্য যে কারন সেগুলো যদি আর না থাকে বা সেগুলো যদি আর তাঁদের কাছে আর দরকারি মনে না হয় তবে তারজন্যও  আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

যাইহোক যে কোন আত্মহত্যার যদি মনস্তাত্বিক পোষ্ট মর্টেম করা যায় তাহ’লে হয়ত কারন গুলো সঠিক ভাবে জানা যেতে পারে। মনে রাখা দরকার আত্মহত্যার কোন একটা কারনে হয় না,অনেক কারন এক সঙ্গে থাকে, এবং এটা জানতে হলে আত্মহত্যাকারির জীবনটাকে ভাল ভাবে পরীক্ষা করতে হবে। এটা জানলে হয়ত এই ধরনের আত্মহত্যা এড়ানো যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *