আত্মহত্যা

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দক্ষিন কোলকাতায় সাউথসিটির চৌত্রিশ তলার ছাদ থেকে তিন মহিলা ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। জানা গেছে যে দুই মেয়ে যাদের বয়স পঞ্চাশের কিছু বেশী, অবিবাহিত, এবং তাঁদের মা, সত্তরের উর্ধে এক সঙ্গে মরণ ঝাঁপ দেন। আরো জানা গেছে যে, সেই মেয়েদের বাবা তার কিছুদিন আগে একটা বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর মেয়েরা, এবং সদ্য বিধবা স্ত্রী, তাঁদের সব সম্পত্তি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেন, তারপর রাতের দিকে সাউথসিটিতে ওই বিলন্ডিঙ্গে ছাদে উঠেন, এবং বেশ রাতের দিকে, সম্ভবত শেষ রাতের দিকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এখন যতই অনুসন্ধান হোক না কেন, এটা হয়ত আর কখনো জানা যাবেনা যে তাঁদের মনে কি ঘটেছিল যার জন্য এই অস্বাভাবিক, ও সাংঘাতিক সিদ্ধান্ত নিতে হোল।

আমরা জানি প্রানীর সহজাত প্রবৃত্তি হোল যে বেঁচে থাকা। যে কোন অবস্থাতেই চেষ্টা করে যাতে শরীরের ক্ষতি না হয়। সুতরাং নিজেকে ধ্বংস করে ফেলা একটা অস্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চয়।

আত্মহত্যা বলতে বোঝায় কেউ নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু বরন করেছে। যারা আত্মহত্যা করেন তাদের কেউ কেউ মানসিক ভাবে, এমনকি শারীরিক ভাবে ভুগতে পারেন। আবার কেউ কেউ নিজের প্রান নিজেই বিনাশ করেন রাগের বশে, বা ঝোঁকের মাথায়। কেউ কেউ নিজে মরতে চায়নি, কিন্তু নিজেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেন যে আকস্মিক ভাবে বা অসাবধানতা বসত নিজেকে মেরে ফেলেন। কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে, বা সমাজের কোন অবিচারের জন্য আত্মহত্যাকে বেছে নেন। কেউ আবার অন্যকে প্ররোচনা দিয় নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন।

এটা দেখা গেছে যে শিশুদের মধ্যে, দশ বছর বয়সের আগে মৃত্যু সম্বন্ধে কোন ধারনা থাকে না। সুতরাং যে কোন মৃত্যুই ওই বয়সের আগে ধরে নেওয়া যেতে পারে আত্মহত্যা নয়। সেটা হত্যা বা দুর্ঘটনা বা অন্য কিছু।

আত্মহত্যার সম্বন্ধে বিভিন্ন ধর্ম কি বলে?

আত্মহত্যার কথা বিভিন্ন ধর্মে উল্লেখ আছে। যেমন, বাইবেলে আছে, জুডাস যিশু খ্রীষ্টকে রোমানদের হাতে ধরিয়ে দেবার পর, যখন তাঁর বিচারে ক্রশে ঝোলানোর সিদ্ধান্ত হোল, তখন মনের অনুশোচনায় সে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিল। বাইবেলে আত্মহত্যাকে একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিন্দু শাস্ত্রে ও ধর্মেও আত্মহত্যাকে মেনে নেওয়া হয় না, বলা হয়েছে যে, আত্মহত্যা করলে নরকে স্থান হবে। ইসলাম ধর্মেও আত্মহত্যাকে একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক সমাজেই আত্মহত্যা করার ব্যপারে কোন ভাবেই কেউ যেন আইডিয়া না পায়, বা সমাজের সম্মতি না পায় সেটা দেখা হয়।

সারা বিশ্বে আত্মহত্যার পরিসংখ্যানে কি পাওয়া গেছে?

আন্দাজ করা হয় যে সারা বিশ্বে ১০ থেকে ২০ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করেন। বেশ কিছু দেশে, বিশেষ করে পাশ্চাত্য দেশে কম বয়সে আত্মহত্যাই মৃত্যুর একটা প্রধান কারণ।  কোন কোন পাশ্চাত্য দেশে গাড়ির দুর্ঘটনা থেকে বেশী আত্মহত্যায় মৃত্যু হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি এক লক্ষে ষোল জনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা করে। তার মানে হ’ল বিশ্বে প্রতি মিনিটে এক জনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা করে।

শেষ পঞ্চাশ বছরে আত্মহত্যার করার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে এবং চীন, জাপানে আত্মহত্যার রেট বেশী। এছাড়া পুরুষেরা মেয়েদের থেকে বেশী সংখ্যায় আত্মহত্যা করেন। একমাত্র চীনেই মেয়েরা বেশী সংখ্যায় আত্মহত্যা করেন।

এছাড়া বয়ঃস্কদের মধ্যে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেশী। অনেক পাশ্চাত্যদেশে বয়ঃস্কদের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা কমে যাচ্ছে কারণ তাদের সাধারন ও সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তাছাড়া তাদের সামাজিক সাহায্য(সরকারি স্তরে), এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সম্প্রতি উন্নতি হয়েছে  বলে।

সাধারণতঃ আগে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করার প্রবণতা কম ছিল, কিন্তু অনেক পাশ্চাত্যদেশে এই বিগত চল্লিশ বছরে এদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এখন বেড়েছে।

ভারতবর্ষের কি অবস্থা?

আমাদের দেশে এখনো ঠিকমত জানা যায়নি কি রেটে আত্মহত্যা হয়। কারন বেশীরভাগ আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হ’লে তার যে ঠিকমত অনুসন্ধান ও রিপোর্ট  জাতিয় স্তরে প্রকাশ করা হয় কিনা জানা নেই। করা হ’লেও সেটা সাধারনের প্রচারের বাইরে থাকে।

বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে যে ভারতের কিছু কিছু প্রদেশে যারা চাসবাস করেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। যেমন অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশায় অনেক চাষি ফসল না হওয়ার জন্য,দেনার দায়ে আত্মহত্যা করেছেন। আবার যাঁরা শেয়ারের ব্যবসা করেন, তাদের মধ্যেও শেয়ারের হঠাৎ অনেক লোকসান হওয়ার জন্য বা অর্থনৈতিক দুর্নিতিতে জড়িয়ে পড়ার জন্য কেউ কেউ অপমান,লাঞ্ছনা ইত্যাদিকে থেকে বাঁচার জন্য মৃত্যুকেই বেছে নেন।

আবার উঠতি বয়সের ছাত্রদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। প্রায়ই শোনা যায়, পরীক্ষায় ফেল করলে, বা ঠিক মত রেজাল্ট না হ’লে, অপমানের (যেটা হয়ত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আত্মগ্লানি) হাত থেকে বাঁচার জন্য ঝোঁকের বসে আত্মহত্যা করে বসে।

জনস্বাস্থ্য দিকে চিন্তা করলে আত্মহত্যার ব্যপারে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি লক্ষ্য করা যায়ঃ

)          আত্মহত্যা করার চিন্তা এবং আত্মহত্যার চেষ্টা সাধারনের মধ্যে বেশ প্রায়শই দেখা যায়।

)          বয়ঃস্বন্ধিকালে এবং যুবকদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আগের থেকে বেশী।

)          বেকারত্ব একটা বেশ প্রধান কারণ।

)          এছাড়া আত্মহত্যার নানা উপকরণ যেমন, নানা বিষাক্ত দ্রব্য, বা ঔষধ, গাড়ি, এবং বন্দুক ইত্যাদি সহজে পাওয়া, এমনকি উচুঁ ফ্ল্যাট বাড়ি ইত্যাদি সহজে কাছে পাওয়ার জন্য।

)          আগের থেকে বেশি মদ্যপান বা ড্রাগে আসক্তি হবার জন্য।

)          মানসিক রোগ যেমন, ডিপ্রেশন, বা সিযোফ্রানিয়া ইত্যাদি ঠিক মত চিকিৎসা না হওয়ার জন্য। কারন এই দুটি মানসিক রোগের জন্য আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়।

)          আর মাস মিডিয়া যেমন সিনেমা, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে আত্মহত্যার নানা পদ্ধতির প্রচার।

এর থেকেই বোঝা যায় যে কেন আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে চলেছে, আর এর জন্য বিশেষ শ্রেনীর মধ্যে আত্মহত্যা বেশী হচ্ছে।

কি কি কারনের জন্য আত্মহত্যার প্রবণতা হ’তে পারে?

Ø  পুরুষরা বেশী আত্মহত্যা করে, যদিও মেয়েরাই বেশী আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

Ø  বেশী বয়স হ’লে তাঁরা বেশী ভাবে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকতে পারেন। শেষ কয়েক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে যে বয়ঃসন্ধিকাল ও কম বয়েসি ছেলে মেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে।

Ø  সাধারণতঃ অর্থনৈতিক অবস্থা যদি খারাপ হয় তাহ’লে সম্ভাবনা বেশী। অথবা হঠাৎ যদি অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়।

Ø  যাঁরা একা থাকেন, যেমন অবিবাহিত, বা বিধবা, বা স্ত্রী মারা গেছেন, বা পরিবারের থেকে দূরে আছেন বা ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

Ø  যাঁরা চাষবাস করেন, রিফিউজি, ছাত্র, ইত্যাদির মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশী। সমাজে সংখ্যা লঘু যাঁরা তারাও আত্মহত্যা করেন বেশী।

Ø  জীবনে বিশেষ কোন ঘটনা যেমন, হঠাৎ নিকট কেউ যেমন স্বামী বা স্ত্রী, বা সন্তান বা প্রেমিক ইত্যাদির মৃত্যু বা বিচ্ছেদ, হঠাৎ অনেক ক্ষতি যেমন, ব্যবসায়ে ক্ষতি হ’লে (যেমন শেয়ার বাজার পড়ার দরুন হঠাৎ অনেক লোকশান হ’লে), কিংবা ভীষণ কোন ক্রিমিনাল চার্জে অভিযুক্ত হ’লে ইত্যাদি।

Ø  কোন ধরনের সাহায্য না থাকলে, এবং সমাজে একা বাস করলে কোন মানসিক ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতাও কমে যায়।

Ø  আর সমাজের থেকে সরে থাকলে, তাঁদের আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে।

Ø  অনেকে রাগের মাথায় সামনে যা কিছু পায় তাই দিয়েই আত্মহত্যা করে ফেলেন। এই ধরনের মানুষেরা স্বভাবতঃই নিজেদের রাগ অভিমান নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন না। তাঁরা আগেও হয়ত কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

Ø  যাঁরা মদ্যপান করেন, বা ড্রাগ ব্যবাহার করেন, তাদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা বেশী।

Ø  কোন ধরনের কঠিন অসুখ হ’লে, যেমন ক্যান্সার, বা রোগের জন্য খুব বেশী ব্যথা বা যন্ত্রনা হ’লে কেউ কেউ তারথেকে মুক্তি পাবার জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মানসিক রোগ ও আত্মহত্যা

মনে করা হয় মানসিক রোগের কারনে বেশীর ভাগ আত্মহত্যা হয়। ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদই বোধহয় প্রধান কারন। প্রায় আশী শতাংশ আত্মহত্যার কারন কোন ধরনের মানসিক অসুখ বা সমস্যা। সিযোফ্রেনিয়ায় যাঁরা ভুগছেন তাদের মধ্যে প্রায় দশ শতাংশ আত্মহত্যা করেন তাঁদের জীবদ্দশায়। এছাড়া পাশ্চাত্যদেশ গুলিতে যেমন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলিতে প্রায় পনের শতাংশ আত্মহত্যা হয় যাঁরা অ্যালকোহল বা মদ্যে আসক্তি আছে। হয়ত তাঁদের মধ্যে অনেকেই ডিপ্রেশন বা অবসাদে ভুগছেন।

পারসোনালিটি  বা ব্যক্তিত্বের সমস্যা ও আত্মহত্যা

আমরা দেখি যে প্রত্যেক মানুষের এক একটা ব্যক্তিত্ব আছে। বেশীরভাগ জনই একটা সাধারন বা স্বাভাবিক ভাবে অন্যদের সাথে মেলামেশা করেন, মানিয়ে চলেন, এবং বেশীরভাগ ব্যপারে বিশেষ কোন সংঘাত বা অসুবিধা হয় না। আর কিছু জন আছেন যাঁরা কম বেশী অন্য ধরনের, প্রায়ই অন্যদের সাথে থাকতে বা মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়। তাঁদের অনেকেরই এই অসুবিধার জন্য মনের নানা উপসর্গ হয়। যেমন ডিপ্রেশন, উদ্বিগ্নভাব, আবেগপ্রবনতা, তারা নানা মাদকদ্রব্য বা অ্যালকোহল ব্যবহার করে।

এক ধরনের ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা যেটাকে বলা যায়, আসামাজিক ব্যক্তিত্ব ( Antisocial personality), এই ধরনের ব্যক্তিত্বের লোকেদের অন্যদের সাথে মানিয়ে চলতে বেশ অসুবিধা হয়। তারা ঝোঁকের মাথায় কাউকে আঘাত করতে পারে, আবার ঝোঁকের মাথায় আবেগ নিয়ন্ত্রনে না রাখতে পেরে আত্মহত্যাও করে ফেলতে পারে। তাঁদের বেশীর ভাগেরই নানা বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ার জন্য জেলে যেতে হয়। কিন্তু তাতেও তাঁদের শিক্ষা হয় না।

পরিবারে কেউ আত্মহত্যা করলে কি অন্যদেরও কি সম্ভাবনা বেশী থাকে?

পরিবারে কেউ যদি আত্মহত্যা করে থাকেন তবে দেখা গেছে যে অন্যদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। এটা হয়ত অন্যদের মধ্যে ডিপ্রেশন বা অবসাদের জন্যও হতে পারে। কেউ যদি আগে একবার আত্মহত্যা করতে অসফল হয় তবে আবার সে ভবিষ্যতে আরো সাংঘাতিক ভাবে চেষ্টা করতে পারে। অনেকে মনে করেন, বা প্রচলিত ধারনা আছে যে, যে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে যায় আর সে চেষ্টা করবে না। এটা একদম ভুল ধারনা।

কেউ যদি মরার বা আত্মহত্যার কথা বলেন তবে কি করা কর্তব্য?

যে কেউ আত্মহত্যার কথা বললে সেটা সিরিয়াস বা সাংঘাতিক মনে করে আরো জানার চেষ্টা এবং তাকে সাহায্য  দেওয়া উচিৎ।

আরো জানার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলি জানার চেষ্টা করুন।

Ø  মরে যাওয়ার বা আত্মহত্যার ভাবনা কি এই প্রথম হোল, না আগেও এ রকম মনে হয়েছে?

Ø  কি ভেবে এই আত্মহত্যার কথা মনে হচ্ছে? মনের মধ্যে কি ভাবের পরিবর্তন বা ডিপ্রেশন বা অবসাদ বোধ হচ্ছে?

Ø  কিছু বিশেষ ঘটনা কি ঘটেছে যা মনের মধ্যে বেশ আঘাত দিয়েছে?

Ø  আত্মহত্যার কথা মনে হলেই কি মনের মধ্যে উত্তেজনা বা উদ্বিগ্ন ভাব হচ্ছে? জিজ্ঞাসা করুন যে মনের মধ্যে সব সময় টেনশন, বা উদ্বিগ্নভাব হচ্ছে কি না? ঘুম ঠিকমত হচ্ছে কি না? কাজে কর্মে মন লাগছে কি না? আর সব সময় একটা দুঃখভাব আর মনে হচ্ছে যেন সব সহ্যের সীমার বাইরে চলে গেছে।

Ø  সে কি অন্য কারো সাথে (নিকট আত্মীয় বা বন্ধু ইত্যাদি) এ ব্যপারে কথা বলেছেন বা কোন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী (নার্স বা সাইকোলজিষ্ট, বা সমাজ কর্মী) বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেছেন?

Ø  জানা দরকার সে কিছু প্ল্যান বা পরিকল্পনা করেছে কিনা? অনেকেই এটা বলতে চান না কি ভাবে আত্মহত্যা করবেন।

Ø  আগে কোন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন কিনা? যদি করে থাকেন তবে, সেটা সম্বন্ধে জানার চেষ্টা করুন। সেটা প্ল্যান করে করা হয়েছিল কি? বেঁচে যাওয়ার পর মনে আপশোষ হয়েছিল কি?

Ø  সে কি কোন ঔষধ খায় কি না? সেই ঔষধ কি এখনো খাচ্ছেন না বন্ধ করে দিয়েছেন?

Ø  তাঁর কি কোন পরিবারের সাহায্য বা বন্ধু বান্ধব আছে কি না?

Ø  জানার চেষ্টা করুন আরো কিছু সমস্যা আছে কি না, যেমন কাজের জায়গায় কাজ নিয়ে সমস্যা, বা সম্প্রতি কেউ নিকটের মারা গেছেন বা বিচ্ছেদ হয়েছে কি না, বা অনেক টাকার লোকসান হয়েছে কি না, পরীক্ষা ইত্যাদিতে অসফল হয়েছেন কিনা, ইত্যাদি।

Ø  সে অ্যালকোহল বা মদ্যপান করেন কি না? বা অন্য কোন ড্রাগ ব্যবহার করেন কি না?

Ø  যদি আত্মহত্যা করেন তবে নিজের আত্মীয় বন্ধু বান্ধব তাঁদের মনের মধ্যে কি প্রতিক্রিয়া হবে, এবং তাঁরা যে মনে কষ্ট পাবেন সে সম্বন্ধে কিছু চিন্তা করেন কি না?

এই সব জানা সত্ত্বেও অনেক সময় আত্মহত্যার রিক্স বা সম্ভাবনা কতটা তা বোঝা যায় না। তাহলেও সাবধান হওয়া বিশেষ দরকার। চেষ্টা করা দরকার আত্মীয় বা কাছের লোককে জানানো, তাকে সব সময় চোখে চোখে রাখা, তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া যদি কোন ডিপ্রেশন বা অবসাদ ভাব হয়। 

বিচারশক্তি না থাকার জন্য কি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে?

এটা হয়ত অনেকে লক্ষ্য করেছেন যে কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা নানা বিপদ জনক ভাবে জীবন যাপন করেন। যেমন তারা সংগতি থাকা সত্ত্বেও সাংঘাতিক অসুখ যেমন ডায়বেটিস, প্রেসারের রোগ বা হার্টের রোগ ইত্যাদির অসুধ খান না, যদিও জানেন যে অসুধ না খেলে রোগের বাড়াবাড়ি হবে, এমনকি অকালে মারাও যেতে পারেন।

আবার কেউ কেউ মদ খেয়ে বা মাদক দ্রব্যের ব্যবহার করে গাড়ি চালান। বা ধূমপান করার কথাই ধরা যাক না কেন। সিগারেট খেলে যে ফুসফুসে ও দেহে আরো অনেক রকমের ক্যন্সার হয়, হার্টের অসুখ হয় তা সত্ত্বেও ধূমপান চালিয়ে যাওয়ার মানে কি যে তাঁদের বিচার ক্ষমতা হয়তো ঠিক নেই? এই সব লোকজনদের কিন্তু কোন মানসিক গণ্ডগোল নেই। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তারা বেপরোয়া।

ভাবুন যাদের দেহের ওজন অনেক বেশী,তারাও অনেক সময় তাঁদের মনকে সংযত করে খাওয়া কমাতে পারে না। অনেকটা আবেগের মধ্যে থেকে বেশী খেয়েই চলে, তার ফলে দেহের ওজন ক্রমশঃ বেড়েই চলে। তার ফলে স্থূলতার (ওবেসিটি) জন্য নানা শারীরিক রোগ যেমন প্রেসারের রোগ, ডায়বেটিস, হার্টের রোগ, নানা জয়েন্টের রোগ বা গাঁটের ব্যথা ইত্যাদি হওয়ার জন্য আয়ু কমে যেতে পারে। এমনও হয় যে ওই সব রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা নিতে চায় না।  সেই জন্য বলা যেতে পারে যে তারা নিজেদেরকে ধীরে ধীরে অকাল মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, বা ধীরে ধীরে সুইসাইড করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *